valobashar kobita bengali

valobashar kobita Bengali


valobashar kobita Bengali,valobashar kobita bangla download,premer kobita Bengali image,Bangla premer kobita Rabindranath,premer kobita Bangla SMS,বাংলা প্রেমের কবিতা সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়,বাংলা প্রেমের কবিতা ভিডিও,বাংলা প্রেমের কবিতা বই,বাংলা প্রেমের কবিতা ছবি,


 

শীতের বিরহ কথা

আলমগীর রেজা চৌধুরী


 

এই শীতে আমাদের শেষ কথা বলব বলে বিষাদের সিম্ফনিতে ডেকেছি এতদিন। দেখো, কাঙাল ছেলেবেলায় আমাদের কোনো বসন্ত- টসন্ত  ছিল না, ব্যাকুল বন্যার মত উঠলিয়া উঠত সময়ের বৈতরণী সেই বুঝি সুখ ছিল, অল্পতেই ভালোবেসে ঘর বেঁধে ফেলা যেত। এইভাবে পনেরোটি ফুল ফোটার পর, শব্দহীন মৌনতায় নদীর পার ধসের মতো ধসে যায় সীমাহীন স্বপ্ন, ধূসর গোধূলিয়া সন্ধ্যা। 

 

কীভাবে শুরু হওয়ার কথা ছিল? একদিন’তুমি’নামের থেকে কলকলিয়ে বয়ে দিত ফেনিল সুষমা, বর্ণিল মেঘলা আকাশ। এই যে ভালোবাসা থেকে  মায়াবী সুরে তুমি দেখেছো নিরবধি সময় তার কাছে এক এক করে ভেঙে যায় স্বপ্ন হৃদয়, পরিচিত ভূভাগ, হায়, প্রার্থিত স্বপ্নেরা কেবলি দিনরাত গুমরিয়ে উঠে-হে মৌন দহন। 

 

এই শীতে আমাদের সব কথা বলার মৌসুম বয়ে যায় বলে এত ব্যাকুলতা ঝড়ে পড়ে বিনম্র আমন্ত্রণে। মনস্তাপে নিজেকে প্রস্তুত করতে করতে এত বিরহ- যাতনা, এত নস্টালজিক মাতম। এই শীতে আমাদের শেষ কথা অনন্ত বিচ্ছেদ। 

 


চন্দ্রাহত

আলমগীর রেজা চৌধুরী


 

 জোছনা বিলাপ নেই

তুমি – আমি,আমি – তুমি

নিয়ন আলোয় স্নান করে

নীলাভ মানুষ হই। 

গ্রহান্তরের কিম্ভুত অতিথি-

মাঝরাতে প্রহর কাটে

নাগরিক চাঁদ। 

আমার হাহাকারে জড়িয়ে থাকে

জারুল গাছের ফাঁক গলে

নেশাতুর চন্দ্রাহত মনুষ্যজীবন।

 

আদর

আলমগীর রেজা চৌধুরী


 

নিজেকে নিজেই আদর করি,

চুলের বাঁজে বাঁজে অঙ্গুলি চালাতে চালাতে

অনুভবে আবিষ্কার করি-

কত অবহেলায় কাতর স্পর্শহীন রোমকূপ

তুমি তাকে এড়িয়ে গেছে। 

দেখ, হাত দাও তুমি নেই

তৃষ্ণার্ত মানবজন্ম।


সাক্ষী

আলমগীর রাজা চৌধুরী


 

কণ্ঠস্বর গুলিয়ে হাহাকার করে উঠে-

যেখানে স্থির সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকো

পৃথিবীর সব রাতপ্রহরের ঘন্টা ধ্বনি ক্রন্দনের রাগ ভৈরবী।  কিছুই চাইনি, নিমগ্ন প্রেম বংশীবাদক সেজে ঘর ছেড়ে চলে গেছে। 

তুমিও উদাসীন বাতাস খেয়ে ধ্যানস্থ-পাখিটাই সাক্ষী থাকে,

তুমি খুব অভিমানী ছিলে। 


যৌবন

অসীম সাহা


 

আকাশে মেঘের চঞ্চল আনাগোনা

সিক্ত বাতাসে করুণ গোঙানি তার

দিনের আলোতে যতোটুকু অধিকার

তাই নিয়ে তার স্বপ্নের জাল বোনা।

 

হঠাৎ তুমুল বাতাসের গর্জন

ভেঙে পড়ে মেঘ, ভাঙে যে বর্ষাধারা

মুখোমুখি বসে বিনিদ্র দু’টি তারা— 

কেঁপে ওঠে ভয়ে, শঙ্কিত শিশু-মন।

 

সামনে মাটির প্রদীপে সলতে কাঁপে

আর্ত দুঠোঁট অধিকার দাবি করে

নমিত চোখের না-বলা কথার ভরে

সংশয়ী মন খোলা-তলোয়ার খাপে

 

ঝলসায়, আর ইশারায় কাছে ডাকে;

কাছাকাছি হয় প্রগলভ দু’টি মুখ

ভরা বর্ষার আশ্বাসে দোলে বুক;

শিহরিত প্রেমে ভীরু যৌবন জাগে।

 

যৌবন মানে তরঙ্গ উত্তাল

যৌবন মানে প্রলয়ে অন্ধ চোখ

যৌবন মানে ঝড়-ঝঞ্ঝা ও শোক

যৌবন মানে শাশ্বত মহাকাল।

 

সেদিন এমনি তরঙ্গ-সংকুল

সমুদ্রে ওরা ঝাঁপ দিয়েছিলো বলে

যৌবন তার সাহসী দরোজা খোলে:

পৃথিবীতে ফোটে একটি গোলাপ ফুল।


 

বৃষ্টি এলেই

অসীম সাহা


 

মেয়েটি ভাসছে, মেয়েটি ডুবছে জলে,

দিগন্ত-ঢাকা আষাঢ়ের অভিমানে

প্রকৃতি অবাক — ঘন মেঘ দলে-দলে

শূন্যে উড়ছে অজানার আহ্বানে।

 

মেয়েটি তখনো শোনেনি মেঘের ডাক

দুই চোখে তার কিশোরীবেলার স্মৃতি

অঙ্গে-অঙ্গে আহরিত মধু-চাক,

তখনো শেখেনি দেহ তার পরিমিতি।

 

বৃষ্টির জলে থেমে গেছে তার চলা

তরঙ্গস্রোতে বাঁকা হয়ে গেছে দেহ

আকাশের কানে অনেক কথাই বলা

হয়নি তখনো — মনে ছিল সন্দেহ।

 

ভিজে জবুথবু একটি অবাক ছেলে

গাছের আড়ালে দেখছিলো তাকে চেয়ে

অঝোর বৃষ্টি দিয়েছিলো ডানা মেলে

জলের অতলে ডুবছিলো সেই মেয়ে।

 

ছেলেটির চোখে ফুটে উঠেছিলো ভীতি

তারপর সে তো দিয়েছিলো জলে ঝাঁপ

বুকের ভেতরে সমর্পণের স্মৃতি

করতে পারেনি কখনো সে পরিমাপ।

 

অন্ধ আকাশ নেমে এলে পৃথিবীতে

এখনো ছেলের বুকের ভেতরে কাঁপে

এখনো মেয়েটি তার স্পন্দন নিতে

নিজেকে জাগায় ময়েটির দেহ-তাপে।

 

অথচ ছেলেটি জানে না এখনো সব

মেয়েটি ভেজায় শুধু বৃষ্টির জলে

মুষলধারায় ঢেকে যায় কলরব

অন্তরে তার ধারাস্রোত বয়ে চলে।

 

তারপর মেয়ে দূরদিগন্তে ছোটে

স্মৃতিরা পায় না কোনোদিন তার খোঁজ

মেঘ কেটে গেলে আকাশে সূর্য ওঠে

বৃক্ষের নিচে ছেলেটি দাঁড়ায় রোজ।

 

অথচ মেয়েটি ফেরে না তো আর ঘরে

বৃষ্টি এলেই তাকে শুধু মনে পড়ে।


 

ফিরে দেখা

অসীম সাহা


 

বাতাসে উড়ছে, উড়তে থাকুক জ্যোৎস্নায় ভেজা চুল

রাত্রিপ্রহরে আকাশে ফুটছে লক্ষ তারার ফুল…

এর মাঝখানে একটি সে-গ্রহ-নক্ষত্রের ডালে

ঝুলে আছে দেখে…বজ্রপতনে কেন তুমি চমকালে?

 

অথচ তোমার সোনালি ফিতেয় বসে আছে নীল পরি

হাওয়াতে দুলছে মিনিটের কাঁটা, কাঁপছে কালের ঘড়ি।

আমার হৃদয় তারই মাঝখানে উড়ে যায় দূর হ্রদে

সেখানে হাজার নর্তকীদের দেহ ভিজে যায় মদে। 

 

তখন আমার ঢুলু-ঢুলু চোখে রাতের প্লাবন নামে

মাতাল নেশায় বুঁদ হয়ে থাকি তোমার দেহের ঘামে

মহুয়া-বুকের বিহ্বল টানে করি অপরূপ ভুল

রাতের আরতি শেষ হয়ে গেলে জ্যোৎস্নায় ভেজা চুল।

 

আমাকে জাগায়…একাকী প্রহরে আমি হেঁটে আসি একা

তোমার আলোতে সেই তো নিজেকে বারবার চেয়ে দেখা।


 

অক্ষয়

অসীম সাহা


 

যদি বন্ধ করে দাও চোখ, তোমাকে দেখবো না আমি…

শুধু অবলোকন করবো;

যদি বন্ধ করে দাও কান, আমি কিছুই শুনবো না…

শ্রুতি গ্রহণ করবে সব;

যদি কথা বলতে না দাও, নিঃশব্দে চেয়ে থাকবো…

ইশারায় ডাকবো তোমাকে;

যদি চলতে না দাও, স্ট্যাচুর মতো দাঁড়িয়ে থাকবো…

দৃষ্টি এগিয়ে যাবে তোমার দিকে;

যদি হাত দিয়ে স্পর্শ করতে না দাও, গুটিয়ে রাখবো হাত…

হৃদয় দিয়ে আলিঙ্গন করবো;

আর সবকিছুতে ব্যর্থ হয়ে যদি আমাকে ধ্বংস করে দাও…

আমি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবো;

কিন্তু আমার রক্তের উত্তরাধিকার বহন করে

পৃথিবী এগিয়ে যাবে কেবল তোমারই দিকে।


 

চোখ নিয়ে পদ্য

অসীম সাহা


 

মেঘের ’পরে মেঘ জমেছে, চোখের’পরে চোখ

চোখ নিয়ে আজ ভীষণ মজা হোক।

চোখ মানে তো চোখাচোখি— শান্ত নদীর ঢেউ

চোখ কি জানে চোখের পিছে লুকিয়ে থাকে কেউ?

চোখের জলে এমন নদী তৈরি করা হোক;

ঢেউয়ের দোলায় চোখের কোণে উপচে পড়ুক শোক।

চোখের নদী শান্ত হলে ঝাঁপিয়ে পড়ুক রাতে

একটি হৃদয় মরুক ডুবে তাতে— 

মরলে ক্ষতি কী?

চোখের ভেতর মৃত্যু মানে শিল্পকলা-দারুণ প্রতীকী।


Recent Posts

 

100% LikesVS
0% Dislikes