valobashar kobita bangla language

valobashar kobita Bangla language


valobashar kobita bangla language,valobashar golpo kobita,valobasar kobita sms,love poems bangla,bangla love poem,love poem bangla,valobasar kobita bengali,valobasar kobita sms,ভালবাসার কবিতা,লবাসার কবিতা সমগ্র,ভালবাসার কবিতা sms,বাবা মেয়ের ভালবাসার কবিতা,সুনীলের ভালবাসার কবিতা,


বালির ঘর

মনিরুজ্জামান অনিক


তোমাকে ভুলে যাই আমি ফেলে আসা রাস্তার মতো;

তবুও তুমি প্রতিরাতে জেগে থাকো আমার খসে পড়া শেষ  তারাটির চিবুকে।

 

মানবী, কে তুমি? 

 

কেন বারবার তোমার স্মরণে আমার মন মন্দিরে পূজা পাঠের আয়োজন হয় একশতো একটা রক্তজবার দীর্ঘ নির্যাসে।

 

কে তুমি মানবী?

 

তোমাকে দেখেছিলাম সমুদ্রের ফেনার মতো সাদা শাড়ী, কপালে রক্তাক্ত সূর্য, লেপ্টে যাওয়া কাজল চোখে।

 

আমি একা সমুদ্রের পাড়ে বহু বছর অপেক্ষায়।

বালিতে জীবন আঁকি, ঢেউয়ে বারবার ভেসে যায়।

 

আবারো তোমায় দেখেছিলাম দূরে আরো দূরে;

যেখানে মিলেছে সময়ের ক্লান্তি,সূর্য ঢলে পড়ে বিরান বিশ্রামে।

 

আমি ঠাঁই দাঁড়িয়ে ঘর আঁকি বেহায়া বালিতে।

 

তুমি বলেছিলে,বালিতে যে ঘর বাঁধে সে মানুষ নয়, গতজন্মের অভিশপ্ত পুরুষ, 

এ জন্মে সে হলো কবি।

আমি গভীর অভিমানে ফেলে আসি বালুচর ; সাথে তোমাকেও।

 

আজও তুমি জেগে থাকো আমার প্রতিটি রাতে।

তোমায় পারিনা ভুলতে, আমি যে মরেছি সেই সমুদ্রে বালির ঘরে।

 

১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ইং।


একটা বিধঘুঁটে স্বপ্ন 

মনিরুজ্জামান অনিক 


অন্ধকারে আঁতকে উঠি,

চোখ মেললেই দেখি পুড়ে যাওয়া বিকৃত দেহ।

প্রতিমার মুখে পড়েছে অভক্তির আলো, 

পুরনো ক্রোধ আর ঘৃণা মিশ্রিত।

 

আমি ঘুমাই না রাতভর; 

পাহাড়া দিই জেগে থাকা পেঁচাদের সাথে।

দু’দণ্ড  কষ্টের আলাপ করি।

যখনই চোখ বুঁজে যায় আলাপে আলাপে, 

দেখতে পাই ছুটন্ত এক ঘোড়া, 

মুখ থুবড়ে পড়ে আছে জনতার ভীড়ে।

 

কি হয়েছে তার,জানতে চাই;কেউ কিছু বলে না।

সবাই যেন মৌন মিছিলে শামিল হয়েছে আজ।

আমি হেঁটে সামনে এগোই___

বিশাল একটা অশ্বথ গাছ ঠেকেছে আকাশে।

আমি তাকে জিজ্ঞেস করি তুমি কেন নীরব! তোমার কি কথা বলতে ইচ্ছে হয়না?

প্রতি উত্তরে সে বলে আমি নীরবতার পথিকৃত।

চুপচাপ শুনে যাই সব__

তোমাদের আনন্দ,বেদনা, সুখ,দুঃখের যতো উৎসব, সবই শুনি। 

 

আমাকে তোমার মতো করে দাও হে বৃক্ষ। 

অশ্বথ গাছটি শুনলো আমার কথা;

আমার পা মাটিতে পুঁতে গেলো, আর আমি হলাম স্তব্ধ নীরবতা।

 

এরপর থেকে আমিও সয়ে যাই সব,

আলকাটা লাঙলের মতোই কেউ কেউ চিঁড়ে দেয় বুক। একে দেয় দ্রাঘিমারেখা।

বলে যায় কানে কানে, কোথা হতে শুরু হয় মেঘ,

কোথায় থেমে যায় মেঘেদের অপূর্ণতা।


শিশিরের  আলিঙ্গন

মনিরুজ্জামান অনিক


পাথর কাটা সূর্যকে তুমি বলো প্রেম

আমি বলি বিলাসিতা।

লাঙ্গল ফলা দিয়ে মাটি চাষকে তুমি বলো

তৃপ্তির বারিধারা… 

আহা! আমি বলি সমাপ্তির শেষ ট্রেন।

 

কি এক উৎকন্ঠা নিয়ে তুমি বিকেলে ধোঁয়া ওঠাও কফির মগে…..

চোখে তোমার লাল নীল আলোর কারসাজি।

আমি তখন সদরঘাটে লঞ্চের সারেং ,

চোখে মাপি জলের গভীরতা।

আমার ঠোঁটেও ধোঁয়া ওঠা সিগারেট সময় পুড়িয়ে সামনে এগোয়।।

 

বসন্ত এসেছে তোমার শহরে.. …

শীতের খোলস পাল্টিয়ে প্রেমিক প্রেমিকারা আত্মস্থ করছে নিজেদের। 

তুমি ও এর ব্যতিক্রম নয়।

 

আমার তো ঘাস হওয়ার ইচ্ছে জন্ম থেকেই, 

আমি ঘাসেদের দলে ডাক পেয়েছি, 

তাদের সাথেই কাটিয়ে দিবো বাকি অর্ধেকটা জীবন।

শরীরের সবটুকু রক্ত জমা দিয়েছি ব্লাড ব্যাংকে, 

শিশিরের জলে আজ ঠিকানা স্থির করিলাম।


আমার যে কি হলো

মনিরুজ্জামান অনিক

 

 


 

 

আমার যে কি হলো!

 

সবকিছু উলটপালট হয়েছে আমার।

সমুদ্রের তলদেশে লন্ডভন্ড করে দেয়  ঝড়।

অথচ উপরে ভাসমান প্রাণীর কানে পৌঁছায় না সে খবর।।

আমারো ঠিক তেমনি হয়েছে সব।

গোটা পৃথিবী ঘুরে নিজের গতিতে।

শুধু আমি অচল-অসাড় ঝরে পড়া শিশিরের উপর।

 

আমার যে কি হলো!

 

রাস্তায় বিজয় উৎসব..

কে জিতেছে কে হেরেছে সেই সমীকরণে ব্যস্ত মুখাবয়ব। 

আমি শুধু একা চুপচাপ- হামাগুড়ি দিয়ে পালিয়ে বেড়াই।

তবুও পারিনা বেশি দূর যেতে দু’পায়ে বল নেই।

 

আমার যে কি হলো!

 

নিজেকে নিজেই চিনিনা।

নিজেকে দেখে বলে উঠি কে তুমি?

অজানা কন্ঠস্বরে বিচলিত হই,

সে বলে__আমি তোমার অস্থি বিসর্জনের অপেক্ষায় ঠাঁই দাড়ানো এক পরিত্যক্ত শহর।।

 

আমার যে কি হলো!

 

কাউকে খুব খুঁজি, ছবি আঁকি গোপন ক্যনভাসে।

রং তুলি সবই আছে ছবি থাকেনা তবুও মনে।

কোথায় হারিয়ে যায় সে? 

প্রশ্নটাই প্রশ্ন করে আমাকে।


50% LikesVS
50% Dislikes