romantic bangla kobita

romantic bangla kobita


premer kobita bangla pic,valobashar kobita bangla language,premer kobita bangla pdf,valobashar kobita bengali pic,valobashar romantic kobita bangla,valobashar kobita bangla font,ভালবাসার কবিতা,


সন্তান 

মনিরুজ্জামান অনিক


সঙ্গমের আগে তুমি বলেছিলে,

কবি, আমায় তোমার স্মৃতিচিহ্ন দাও।

আমার গর্ভে তুমি লিখে দাও তোমার যাবতীয়

সুখ – ঐশ্বর্য। 

আমি আমার সবটুকু বিলিয়ে দিয়ে লিপ্ত হলাম সঙ্গমে।

সেই আদিম নিয়ম কানুন মেনে।

আমি হয়ে গেলাম বন্য আর তুমি হলে সুশীতল সবুজ অরণ্য।

আমি তোমাকে ক্রমশ গ্রাস করছি অমাবস্যার গ্রহণের মতো। 

আমি আলকাটা লাঙলের ফলা দিয়ে চষে বেড়াই তোমার জমিন জুড়ে… 

তোমার লজ্জাবতী মন নুইয়ে পড়ে পৌষের সীম গাছের মতোই মাচায় আঁকড়ে ধরে।।

 

অবশেষে তোমার ভেতর প্রবেশ করে কবিতা, অন্ধকার গুহার প্রবেশ দ্বার উন্মুক্ত করে সে বড় হয়।

 

তোমার শরীরের বেড়ে উঠে কবিতা।

এখন তুমি কবিতার জননী।

কবিতার নাম লালন।

আমার ঔরসজাত সন্তান।

আমাদের লালন।


ভালোবাসার কারন

মনিরুজ্জামান অনিক


তোমায় কেন ভালোবাসি! 

বহুবার সে প্রশ্ন করেছো তুমি।

বারবার এড়িয়ে যাই …

বারবার ভিন্ন বাহানায় অন্যকিছু টানি আমি।

 

পৃথিবীতে ভালোবাসি নামক শব্দটির কোন সুরতহাল হয়না। হয়না তার আগমনের কারন জানা।

নক্ষত্রের এই যে জ্বলে জ্বলে থেমে যাওয়া;

দিনক্ষণ কিছুই মানেনা।

ভালোবাসারো ও ঠিক তেমনি হুটহাট করেই আগমন।

পৃথিবীতে এর করন এখনো অজানা।

 

তোমায় কেন ভালোবাসি তা থাকনা আজ অজানা।

হাজার বছরের অন্ধকারের মতন,

অনাবৃত শিলালিপির মতন।

মেঘে ঢেকে যাওয়া সূর্য্যের মতন।

 

যদি মন খারাপ হয়, প্রচন্ড ব্যাথায় বুক ভার হয় তোমার।

যদি খুব চিৎকার দিয়ে বলতে ইচ্ছে হয় দেখতে চাই তোমায়।

যদি বুক ফেটে  গড়িয়ে পড়ে রোদন,

বলে উঠে ভালোবাস কি আমায়।

জেনে রেখো আমি ও তোমারই মতন বরফ জমা ভীষণ শীতল।

আমি ও তখন উন্মাদ এর মতন শব্দে শব্দে লিখে দিই

ভালোবাসা নামক ছাঁই পুড়া আগুন।

আমার তখন চশমা ঝাপসা হয় নোনা জলে।

আমারও হাত কাপে শব্দের গুঞ্জনে।

আমিও স্তব্ধ হই দৃষ্টির বাইরে।


আজ বহুদিন পর

মনিরুজ্জামান অনিক


আজ বহুদিন পর তোমার চোখে চোখ রেখেছি,

আজ বহুদিনপর তোমার হাতে হাত ধরেছি।

আজ বহুদিন পর তোমার সামনে উচ্চস্বরে বলেছি,

ভালোবাসি।

আজ বহুদিন পর তুমি আমি জল দেখেছি,

ঘাটে বাধা একটা নৌকা…

আজ বহুদিন পর আমরা দু’জন পাশাপাশি হেঁটেছি

বুকে জমা অপেক্ষার পূর্ণতা।

আজ বহুদিন পর তোমার চশমা আমার চোখে…

আজ বহুদিন পর একই ফ্রেমে কিছু সময় বাঁধা থাকে।

আজ বহুদিন পর তুমি আমি কেঁদেছি কোন এক গোপন শোকে।

আজ বহুদিন পর তোমার স্বপ্ন ঢেলে দিয়েছো আমার চোখে।

আজ হতে যতদিন যাবে সেই স্বপ্ন আমি লালন করবো আমার বুকে খুব গোপনে।

 

আজ  বহুদিন পর!

 


শব্দ চাষী 

মনিরুজ্জামান অনিক


বুকের ভেতর হাজার শব্দ বাড়ে আর্তনাদ! 

কিছু শব্দ ডুকরে কাঁদে নিশ্চুপ প্রতিবাদ! 

কিছু শব্দ রুষ্ট পুষ্ট বাহাদুরি তার…

শেষ রাজার মুকুট যেন তাহার অধিকার! 

 

কিছু শব্দ চুপসে যায় বাতাস হীন বেলুন…

কিছু শব্দ থমকে গিয়ে এবার বলে চলুন।

কি হবে আর কথা বলে কে শুনে কার কথা,

এরচেয়ে বরং এই ভালো কেটে পড়াটা।

এতে বরং গা বাঁচবে মরুক অন্য কেউ, 

আমি তো বেশ ভালই আছি কেন তুলবো ঢেউ। 

 

কিছু শব্দ প্রেমিক ভীষণ কথায় কথায় কাব্য…

প্রেমিক হয়ে কবি হলো, নাকি কবি হয়ে প্রেমিক, 

সে হিসেব আজকে থাক মাপবো অন্যদিন।

 

কিছু কথা লাশ টানে ঝড়ে পড়া বকুল…

ভরা নদী ছাপিয়ে যায় জলে ভরা দু কূল। 

এইভাবে সে বেঁচে থাকে স্মৃতি আঁকড়ে ধরে…

ঘড়ির কাঁটা থেমে গেলে সে ও যায় মরে।

 

আমি এখন শব্দ চাষী বেনামী কতো শব্দ……!! 

শব্দের আঘাত শুষতে শুষতে আমি এখন জব্দ।

খাতা খুলে বসে আছি হারিয়েছে সব শব্দ….., 

কেউ একজন হারিয়েছিলো ,নিয়ে গেলো সব তো।

 


এক থালা ভাত হবে?

মনিরুজ্জামান অনিক


এক থালা ভাত হবে, ভাত?

বাসি হলেও চলবে!

অনেকদিন দু’মুঠো পেটপুরে খাইনি আমি।

স্বাধীন হয়েছে দেশ জাতি ঠিকই…

কিন্তু কই! আমার ভাতের নিশ্চয়তা তো দ্যায়নি কেউ-ই।

এক থালা ভাত হবে, বাসি হলেও চলবে।

এক থালা ভাত!

তোমাদের আহারের পর ফেলে দেয়া ভাত!

হবে এক থালা ভাত।

নালা,নর্দমায় ফেলে দেয়া ভাত।

আমি সেগুলোই কুড়িয়ে খাবো।

পেটের ভেতর যে রাক্ষস পুষি সে আমায় ক্ষমা করেনা। তার ভাত লাগবেই।

সে বোঝে না স্বাধীন হয়েছে জাতি,কিন্তু আমি আজও বন্দী। এক থালা ভাতের কাছেই আমি পরাধীন।

এক থালা ভাত হবে, পচা বাসি হলেও চলবে।

বহুদিন পেটপুরে খাইনা আমি এক থালা ভাত।

 

এক থালা ভাত হবে?


আমার নির্দিষ্ট কিছু নেই

মনিরুজ্জামান অনিক


আমার কোন নির্দিষ্ট নাম নেই।

আমার নির্দিষ্ট কোন গাছ নেই।

আমার নেই নির্দিষ্ট কোন বাসস্থান। 

আমার পরিধানে যেই বস্ত্রটি আছে সেটাও আমার নাহ।

 

এই যে চোখ যতদূর যায় কত মানুষ দেখি!

সবার চোখেই একটা অস্থিরতা,আমার সেটাও নেই।

আমার কোন চোখ নেই,নেই চোখের পাতায় লেপ্টে থাকা ঘুম।

আমার কোন কাক ডাকা ভোর নেই; 

নেই সকালে ধোঁয়া উঠা এককাপ চা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা, একজোড়া হাত।

 

আমার কোন পদচিহ্ন নেই;

নেই কিছু ফেলে আসার টান।

আমার কোন স্বপ্ন নেই; 

নেই স্বপ্ন ভাঙার মৃত কোন শ্মশান।

আমার একটা পাখি নেই;

নেই পাখি পোষার বিন্দু অভিমান।

আমার কোন আকাশ নেই; 

নেই আকাশের ঠিকানায় লেখা দু’একটা গান।

আমার শুধু আছে এক শহর বৃষ্টি।

মুষলধারে ঝরে পরা বৃষ্টি।।


ওরা আসে আবার চলে যায়

মনিরুজ্জামান অনিক


ওরা আসে ওরা চলে যায়।

অতিথি পাখির মতোই দু একটা পালক ফেলে যায়।

ওরা থাকে মনের গহীনে, নিশ্চুপ চলন ওদের।

কেউ টের পায়না, কেউ জানেনা ওদের খবর।

শুধু গহীন রাতে ডাহুক পাখির সাথে কেউ কেউ জেগে থাকে ওদের অপেক্ষায়। 

 

কিন্তু ওরা আসেনা!

আর ভালোবাসেনা।

ভালোবাসা নামক নদীর জল বিষাদে শুকায়।

শূণ্যতায় ঘিরে ফেলে আমার ঘর।

ধূ ধূ মরুপ্রান্তের মতোই আমার শহর।

ভীষণ ফাঁকা, ভীষণ একা।


Recent Posts

 

50% LikesVS
50% Dislikes