premer kobita bangla

premer kobita bangla


premer kobita bangla,valobashar kobita bangla language,premer kobita bangla pdf,valobashar kobita bengali pic,valobashar romantic kobita bangla,valobashar kobita bangla font,ভালবাসার কবিতা,লবাসার কবিতা সমগ্র,ভালবাসার কবিতা sms,বাবা মেয়ের ভালবাসার কবিতা,সুনীলের ভালবাসার কবিতা,


আমি মেলাতে পারিনা উত্তর। 

 

আমার যে কি হলো!


 

রাস্তায় এতো এতো মানুষ দেখি!

কই জীবন তো দেখিনা কারো ভেতর।

শুধু দেহ নামক মাংসপিণ্ডই কাঁধে চাপিয়ে হেটে বেড়ায় মানুষ।

দিন শেষে রাত নামে, গোপন খামে তোলা থাকে ফেরারী সব কর্মদোষ।।

 

আমার যে কি হলো!

 

মৃত্যুর পায়ে জমা রাখি কবিতা।

যেভাবে মিনারে ফুল রাখে প্রভাত ফেরীর মিছিল।

মৃত্যু নাকি তীব্র যন্ত্রনার…

লাশ ফেরী করা দলের সাথেই হুবুহু মিল।

আমি ও তাদের দলেই…

ঝরে পরা পালকের মতো সমাহিত দলিল।।


গোঙানির আওয়াজ

মনিরুজ্জামান অনিক


মাঝরাতে গোঙানির শব্দে ঘুম ভেঙে যায়

এই নিশুতি রাতে কে এমন গোঙায়!

কার এতো ঢেউ তোলা রোদন.!.

আরব্য রজনীর দেয়াল ভেদ করে সেই আওয়াজ বহুদূর চলে যায়- গ্রহ নক্ষত্র ছাড়িয়ে আরো দূরে।

কম্পিত হয় ক্ষিয়মান তারকারা।

বিস্মিত হয়ে তারাও জানতে চায় কে এমন রোদন তুলে.. কি এমন কষ্টে শিহরিত হয় আন্দিজ পর্বত।

 

আমি যেই রুমে থাকি তার পাশে পুরনো একটা আমগাছ। তাতে জোড়া শালিকের বসবাস।।

মাঝেমধ্যে কান পেতে শুনি শালিক দম্পতির খুনসুটি। তারা কি সুখে আছে? খবর জানিনা।

বাইরে থেকে দেখলেই কি আর বুঝা যায়,

অসুখ কতটা গ্রাস করেছে মনে! কতটুকু অভিমান পুষে বেহুলা যাত্রা করে লক্ষিন্দরকে ফেরাতে স্বর্গপানে।

 

গোঙানির শব্দ আরো প্রকট হয়, রাত্রি বাড়ে।

আমার দু’চোখে ঘুম নেই.আমি পায়চারি করি।

বসে থাকি বেতের চেয়ারে। কি এক অস্থিরতা গ্রাস করে, নিশ্চুপ সেই অস্থিরতা আমাকে বাঁচতে দেয়না।

 

বুকে হাত রেখে বুঝি যেই গোঙানির শব্দ এতোদিন খুঁজি সেটা মূলত আমার ভেতরকার মৃত্যু দন্ড প্রাপ্ত আসামীর।।

দিন দিন সেই শব্দ আরো প্রকট হচ্ছে..হঠাৎ একদিন সবকিছু চুপচাপ। শীতের চাদরের মতো নীরব।

গোঙানির শব্দ আর কানে আসেনা।

জোড়া শালিক ও টের পায় কিছু একটা হয়েছে পৃথিবীর। 

তারপর আমি ও বুঝি আমি আর বেঁচে নেই।

সবকিছু উলটপালট আমার,আমি স্থবির, আমি বধির।। 

আমার পাঞ্জাবির পকেটে লিখা থাকে আমার 

শোক নামা। মৃত কবির রুদ্ধ শ্বাসের অগোছালো কিছু বার্তা।


ওরা এসেছিলো

মনিরুজ্জামান অনিক


গতরাতে ওরা এসেছিলো… 

দরজায় ঠক,ঠক শব্দ।

কে?

আমরা। 

আমরা কে?

কোন উত্তর নেই।

 

আমি বিচলিত হই… ….. 

লাফিয়ে উঠি বিছানা ছেড়ে।

টেবেলে রাখা জগ থেকে পানি ঢেলে ঢকঢক করে গিলি একশ্বাসে।

চশমাটা চোখে দিয়ে, 

এক পায়ে জুতো আরেক পা খালি.. .. .. 

আমি দরজার পাশে যাই।

দরজার ওপাশে দাঁড়ানো বাংলার বর্নমালা-

রফিক, সালাম,বরকত, ও জব্বার কে দেখতে পাই।

 

আমি দরজা খুলে দিই!

রাত তখন তিনটে।

বাইরে তাকিয়ে দেখি হাজারো বর্ণমালা বিমর্ষ মুখে দাঁড়িয়ে।

ওরা ঘরে ঢুকলো।

আমার লেখার টেবিলের পাশে যে কয়েকটা বেতের চেয়ার পাতা তাতে ওরা বসলো।

আমি বিচলিত হিম শীতল চোখে তাকিয়ে আছি।

 

নীরবতা ভেঙে ওরা বলে উঠলো জানো –

১৯৫২ র একুশে ফেব্রুয়ারি মিছিলটা ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে আসতেই পুলিশ গুলি ছুঁড়ে। 

আমাদের বুকে তাজা বুলেট বিঁধে যায়,

রক্তে রঞ্জিত হয় আমাদের শার্ট। 

এতটুকু ও কষ্ট পাইনি আমরা।

মায়ের ছবিটা চোখের সামনে জীবন্ত হয়ে উঠে তখন।

মা কে মা বলে ডাকতে পারবো এই নিশ্চয়তায় এ জীবন লুটিয়ে দেই।

মা বলে ডাকতে ডাকতে পরম মমতায় বাংলা মায়ের কোলে আমরা সেদিন চিরতরে ঘুমিয়ে পড়ি।

 

আজ তোমরা ২১ শে ফেব্রুয়ারিতে আমাদের স্মৃতি স্তম্ভে ফুল দিয়ে দিবস পালন করো।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

ব্যাস এটুকুই কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ!

 

ওরা আমাকে জিজ্ঞেস করে , কতটুকু ভালোবাসো বাংলা মা কে? 

আমি চিৎকার দিয়ে বলি___ সবটুকু দিয়ে।

ওরা ধমকের সুরে বলে ওঠে মিথ্যুক।

 

যদি ভালোবাসতে___

তাহলে বাংলা মা কেন বিবস্ত্র? 

বাংলা মা কেন আজ ধর্ষিত?

বাংলা মায়ের ছেলেরা কেন ডাস্টবিনের খাবার কাড়াকাড়ি করে খায়?

কেন গৃহহীন মানুষ পড়ে থাকে রাস্তায়?

কেন বাংলা ভাষা আজ লুন্ঠিত?

কেন,কেন,কেন?

জবাব দাও?

 

আমি কোন উত্তর দিতে পারিনি সেদিন।

 

ওরা উঠে দাঁড়ায়, চলে যাবার আগে কাঁধে হাত রেখে বলে___

তোমরা ভালোবাসতে শেখো নি।

রক্ত দিয়ে ভালোবাসতে হয়।

যেদিন রক্ত দিতে পারবে সেদিন বাংলা মা কে প্রকৃত ভালোবাসতে পারবে।

সেদিন মুখে বলতে হবেনা ভালোবাসি,

তোমাদের অন্তরই সাক্ষী দিবে ___

তোমরা প্রকৃত দেশপ্রেমিক।

 

আমি চশমাটা খুলে আকাশ পানে তাকাই, 

নিজেকে নিজেই জিজ্ঞেস করি ___

আমি কি সত্যিই দেশপ্রেমিক! 

উত্তর আসে, নাহ্।

 

আমি কখনই দেশপ্রেমিক হয়ে উঠতে পারিনি, 

আমি ভালোবাসি নিজেকে দেশকে নয়।

আমি নিজেকে ভালো রাখার শপথে,

মুখোশের আড়ালে অঞ্জলি দিই হাজারটা অভিনয়।

আমি আমাকে ভালোবাসি , বাংলা মা কে নয়।

অথচ বাংলা মায়ের কোলেই আমি খুঁজি,

আমার শেষ আশ্রয়।

 

আমি বড্ড স্বার্থপর, 

আমরা বড্ড স্বার্থপর।।


50% LikesVS
50% Dislikes