bangla romantic premer kobita

bangla romantic premer kobita


bangla romantic premer kobita,valobasar kobita bengali,love poem bangla,valobashar kosto kobita,bangla love poem,না পাওয়া ভালোবাসার কবিতা,আমি নিয়ে কবিতা,ভালবাসা কবিতা,ভালোবাসা দিবসের কবিতা,bhalo bhalo kobita,


নক্ষত্ররা বেঁচে থাকে

মনিরুজ্জামান অনিক


কষ্টকে সাক্ষী রেখে কবিতার গেলাসে ভর্তি করি চোলাই মদ।

আমি ঢকঢক করে গিলে হই বেসামাল।

তুমি সামনে আসো ঠিক তারপর।

 

আমি তোমাকে ছুঁতে পারি।

তুমি তোমার চুল খুলে দাও দখিনা বাতাসে।

আর আমি হারিয়ে যাই মহাকালে পথ ধরে।

 

গ্রহ নক্ষত্র সবার সাথে দেখা হয় আমার।

সবার পেছনে যেই নক্ষত্রটি অভিমান পুষে লুকিয়ে রাখে নিজেকে….. 

সে আমাকে সুধায় – প্রেমিকা পেয়েছো কবি?

আমি বলি হ্যাঁ।

সে বলে প্রেম উবে যায় সাথে প্রেমিকাও।

 

আমি একরাশ মন খারাপের বার্তা বুকে জাপটে ধরে তোমার কাছে ফিরি – তুমি নাই।

আর কোনদিন আসোনি।

আমি আবারো উদরপূর্তি করে মদ গিলি…

তুমি আর আসোনা।

যে সময় চলে যায়, তাদের মতো করে তুমি ও কোনদিন ফিরে আসোনি।

 

আজকাল খুব কথা হয় ক্ষত পোষা নক্ষত্রটির সাথে। সে শুনতে চায় আমি কেমন আছি?

আমি ঠোঁটের কোনে হাসি আড়াল করে বলি বেঁচে আছি।

সে বলে বেঁচে থাকাটা প্রয়োজন কারন তোমার কষ্টরা এখনও তৃপ্ত নয় তোমার কাছে।

 

যেদিন কষ্টদের বুকে লেখা হবে সোনালী হরফে, “মুক্তি দিলাম  প্রাণশূণ্য সেই মানুষটিকে “

সেদিন তোমার মুক্তি। 

 

আমার মতো নক্ষত্র হতে পারবে সেদিন।

নিজে জ্বলে অন্যকে আলো দিতে পারবে…

পথ হারা নাবিককে দিতে পারবে প্রাণের সন্ধান। 

 

আমি চুপ করে নক্ষত্রের কথা শুনি আর উদর পূর্তি করি চোলাই মদে।

একসময় আলো ফোটে ওঠে চারপাশে।

নক্ষত্রের মৃত্যু হয়-পরবর্তী দিনে বাঁচবে বলে। শুধু আমি থেমে থাকি জরাজীর্ণ কোন এক সময়ের দলে।


কেন্দ্রমুখী টান

মনিরুজ্জামান অনিক 


বুকের কোনে জমে আছে ঝিমিয়ে পড়া স্রোত!

ভালোবাসার আলখাল্লাতে তোলা রইলো ক্রোধ।

পৃথিবী কেন নিষ্টুর এতো মহাকালের দলিল পাতায়__

নক্ষত্র কেন বেঁচে থাকে জমানো সব পুরানো ব্যথায়?

 

স্তুপাকারে সাজানো থাকে ফেনার মতো গলিত সীসা, 

যত্ন করে  চাপিয়ে দেয়া ভস্ম হওয়ার আদিম নেশা।

 

একটা চেনা সুরের খোঁজে ছুটছি আমি দিগ্বিদিক, 

দূর হতেই শুনি সে সুর,কাছে গেলেই সবটা অলিক।

 

আমি যেই বৃত্তে ঘুরি তার কেন্দ্রে তোমার বাস…

কেন্দ্রমুখী স্রোতের টানে বাড়ছে ভীষণ দীর্ঘশ্বাস।

সেই কেন্দ্রের পাহারাদার একশো একটা ফণীমনসা।

যাতো-ই আমি ছুঁইতে যাই..রক্তাক্ত হয় আমার পা।

 

দপ করেই নিভে যায় জ্বলন্ত মোমবাতি…. 

এরপরেই শুরু হয় কালোর ঘরে বিজয় শ্রুতি।

কালো ভালো,কালো ভালো, জগৎময় তার বাস…. 

আলো এসে দেখিয়ে দিলো কালোর সর্বনাশ।।


সংসার

মনিরুজ্জামান অনিক


হঠাৎ করেই ডেকে বলবো-

এই, শোনছো এক কাপ চা দাও, 

২ চামচ চিনি, মনে থাকে যেন।

তুমি কিছুটা রাগত স্বরে বলবে এতো চিনি খেতে নেই..

আমি তখন মুচকি হেসে-কিচ্ছু হবেনা, তুমি আছ তো পাশে।

 

হঠাৎ আমার ভীষণ জ্বর গা পুড়ে যাচ্ছে।

আমি ব্যস্ত কবিতার পাতায়,কলমের কালি সাদা পৃষ্ঠা খোদাই করে খাচ্ছে। 

খেয়াল নেই নিজের দিকে… 

তুমি কপালে হাত দিয়ে চমকে যাবে..

জ্বর মেপে এক গ্লাস ঠান্ডা জল সাথে প্যারাসিটামল, দেবীর মতো করে খাইয়ে দিবে পরম মমতায়।

যেই মমতা আমি পাইনি বহুদিন…..

জরাজীর্ণ এই পৃথিবীর বুকে।

আমার চোখের জলে দূকুল ভাসিয়ে নদী ছুটে যাচ্ছে কোন এক অজানা প্রেমের উল্লাসে।

 

একটা পাল তোলা নৌকো, তার ভেতর লাজুক নয়নে তাকিয়ে আছে নববধূ। 

ঠিক তোমার মতো করে।

বধূর চোখের কোন কূল কিনারা নেই..

কোথা হতে আসে জল কোথায় চলে যায়..

বধূও ঠিক জলের মতোই জলেতে সাঁতরায়।

 

হঠাৎ করে তোমার স্পর্শে ফিরে এলাম,

কল্পনা থেকে বসুন্ধরায়। 

কি গো কি ভাবো এতো…!

ভাবছি… 

তোমার সাথে পাড়ি দিবো হাজার বছর পথ।

একটা ছোট্ট নৌকোয়…তুমি সেই নববধূ।

 

একটু ঘুমাও তো, 

জ্বরের ঘোরে কি সব আবোল তাবোল বকছো।

আমি ঘুমিয়ে পড়ি….

তুমি জানালায় আকাশ দেখো,

চোখে দু’ফোটা জল।

আকাশকে প্রশ্ন করো তুমি, “ভালোবাসায় কেন এতো ভয়? ভালোবাসা কেন এতো চঞ্চল,শীতল,নির্মল,কোমল?”


নিরুদ্দেশ

মনিরুজ্জামান অনিক


হঠাৎ উধাও দৃশ্যমান নাবিক!

সময় কি ক্ষমা করেছিলো তাকে?

অজানাই থেকে গেলো সে নিজের কর্ম দোষে।

কি এমন করেছিল,কি ছিলো তার উপর অর্পিত

কর্মদোষ?

কি কারনে সে মনে পুষেছিলো অভিমান, বেহুলা- লক্ষীন্দর।

 

শুনেছি ভালো নাকি বেসেছিলো কোন এক রমনীকে।

অজানা কোন কারনে রমনী হারায় কুয়াশায় ভর করে।

এরপর থেকে নাবিক হলো সে,নোনা জলের নাবিক।

নিজের রক্ত মিশিয়ে নোনা জলে এঁকে দিলো জাহাজ, অজানা ব-দ্বীপ।

 

এর কিছুদিন পর নাবিক নিখোঁজ,পড়ে আছে তার বিধ্বস্ত জাহাজ..নিভে গেছে শেষ জ্বলন্ত প্রদীপ।

 

কেউ দেখেনি আর.. কোনদিন পায়নি তার খোঁজ।

বহমান সময় ক্ষমা করেছিলো কি তাকে!

প্রশ্নটাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে আছে, ফেলে আসা রাতে।


50% LikesVS
50% Dislikes