bangla kobita prem

Bangla kobita prem


Bengali kobita, Bangla poem, Bangla kobita love, Bangla kobita lekha, Bangla kobita brittle, Bangla kobita lyrics,kobita lyrics, Bangla kobita Rabindranath Thakur, Bangla Bangla kobita lyrics, Bangla kobita prem,Bangla kobita prem


মন খারাপের বিজ্ঞাপন

মনিরুজ্জামান অনিক 


আজ  মন ভালো নেই

আজ আমি কোথাও যাবো না।

আজ সন্ধ্যা বেলায় সব বাতি নিভিয়ে দিয়ে…

মুঠোফোনে তোমার সেই ছবিটি দেখবো।

যেথায় তোমার চোখে লেগে ছিলো নেশা মাখা প্রেম,

চশমার কাচ ডিঙিয়ে চোখে স্পর্শ করেছিলো কুয়াশার সতেজতা।

ঠোঁটে ছিলো কাছে টানার ব্যকুলতা।

কন্ঠে ছিলো সুরেলা রোদ্দুর!

কপালে ছিলো মুক্তঝরা ঘাম,কপাল ঘেষে খানিক অবাদ্ধ চুল। তারা উড়ছে বাতাসের সাথে মুষ্টিযুদ্ধে।

রক্তজবা লাল টিপ। যেনো, সবে মাত্র ভোরের সূর্য তোমার ললাটে উদিত হলো।

সুদীর্ঘ কাজল ভেজা নদী তাকে বলি আমি চোখ।

আমি সেই ছবিটিই দেখবো কারন আজ আমার মন ভালো নেই, আজ আমি নিশ্চুপ।


পবিত্র বিষাদ

মনিরুজ্জামান অনিক


জানিনা কোন দোষে মোরে করেছো দোষী…

জানিনা কোন ব্যাথা মনে রেখেছো পুষি।।

 

জানিনা কেন ক্ষণে ক্ষণে গহীন রাতে

আখিতে মাখোঁ দু ফোটা বৃষ্টি।।

জানিনা কাকে পাবে বলে মোনাজাতের ছলে…

দূর আসমানে বিলিয়ে দাও তোমার দৃষ্টি।।

 

জানিনা কবে হবে দেখা ঘুচিবে একা

কবে জানি এক হবে সাগর নদী।

আর কতো পথ বাকি কতো শপথ…

কেমন হবে বলো বিষাদের কালো

থেমে যায় আজ যদি।

 

কতো তরুলতা দিয়েছিলো কথা…

বৃক্ষের সাথে মিশে যাবে এবার।

কেউ ঠিক পারে, মিলাতে তারে

কেউ নাহি পারে আজীবনের তরে

মরে যায় সে না পাওয়ার ঝড়ে।

 

আমাদেরও কি হায়! লিখা আছে তাই।

অতৃপ্ত হৃদয় পুড়িবে শোকে।

হয়তো তা হবার নয়, হয়তো তাই হয়…

নিখাদ প্রেম পুড়বে  দুজনের বুকে।


বেওয়ারিশ

মনিরুজ্জামান অনিক


সুবহে সাদিকের পর চারদিক আলোকিত হতে শুরু করল। ক্রমশ বাড়তেই লাগলো কৌতুহলী মানুষের ভীড়। গুটিগুটি পায়ে লোকজন জড়ো হতে লাগলো ভাঙ্গা ব্রীজের নিচে।

 

জায়গাটা জরাজীর্ণ। ঘাস লতাপাতায় বেষ্টিত।

 

মাহতাব মেম্বার থানায় খবর পাঠিয়েছেন।কিছুক্ষনের ভিতরেই পুলিশ চলে আসবে।

 

লোকজনের মুখেমুখে শোনা যাচ্ছে গুঞ্জন।লোকটা কিভাবে মারা গেল সেটার সুরতহাল করে ফেলছে মুখেমুখে। মুখে একরাশ তৃপ্তি নিয়ে আবুল বলতে লাগল জ্বীনের আছড়েই মরছে লোকটা তার কথায় সায় ও মিললো চারপাশ থেকে।

 

পুলিশ চলে এসেছে। অর্ধভেজা লাশটাকে পানি থেকে টেনে পাড়ে তোলা হলো।

 

আহা! কি সুদর্শন চেহারা! মুখে চাপ দাঁড়ি, বাবরি চুল। মরার পরও লোকটাকে কি সুন্দর দেখাচ্ছে!

মনে হচ্ছে পরিশ্রান্ত দেহটাকে নিয়ে ঘুমিয়ে আছে।

এই বুঝি জেগে উঠবে।

 

শরিফ উদ্দিন দারগা লাশটার পাঞ্জাবীর বুক পকেট থেকে একটা চিঠি পেলেন। চিঠিটাতে গুটি গুটি  হাতের লিখা,”হৈমন্তীর শোকে অবলাকান্তের পাথর হৃদয়ের মুক্তি। “

 

চিঠিটা শরিফ উদ্দিন নিজের পকেটে রেখে দিলেন। লাশ ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়া হলো হাসপাতালের মর্গে।পোস্টমর্টেম শেষে রিপোর্টে বড় করে লিখা হলো, “একটা শাশ্বত প্রেমের মৃত্যু।”

 

বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে দাফন করা হলো এক প্রেমিকের মৃতদেহ।

লাশটা মাটিতে পঁচে যাবে ঠিকই, কিন্তু ভালোবাসা! 

সেটা পৃথিবীতে টিকে রবে যুগযুগ ধরে।


যাবজ্জীবন

মনিরুজ্জামান অনিক


আমার প্রিয় মানুষটি আমাকে বললো আমি নাকি দুনিয়ার সবচেয়ে অগোছালো একটা মানুষ। আমার মতো এমন অগোছালো মানুষ নাকি সে দুনিয়াতে দ্বিতীয়টি আর দেখেনি। আমি নিজের কোন যত্ন নেই না,নিজেকে ভালোবাসি না।আয়নার সামনে দাড়িয়ে কথাগুলো বলছিলাম। আয়না বলল, সে যা বলেছে ঠিক বলেছে। কেমনডা লাগে! আমার আয়না তার পক্ষেই রায় দেয়। মামলায় আমি হরে যাই। আমার যাবজ্জীবন সাজা হয়। তার সাথে সংসার করার মিষ্টি সাজা। ভালোবাসার সাজা। আমি সাজা ভোগের জন্য প্রস্তুত প্রিয়।। এবার তোমার রায় কার্যকর করার পালা।

 

◾আহা প্রেম! আহা প্রেম।


আমার প্রিয় কষ্টরা

মনিরুজ্জামান অনিক 


তোমারে পাইবার আশে ভালোবাসিনি।

আমারতো কষ্ট পাওয়ার ছিলো!

তাই ভালোবেসেছি।।

 

কষ্টকে আমি বুকে ঝাপটে ধরি.

ঠিক তোমাকে ঝাপটে ধরার যে ইচ্ছে ছিলো

তার মতো।

তুমি আর কি’বা কষ্ট দিবে।

যার জন্মই কষ্টের আগুনে পুড়ে পুড়ে তার আবার কষ্টের কি ভয়! 

কষ্টকে ভয় পাওয়া তার কাছে বিলাসিতা ছাড়া কিছু নয়।

তোমাকে আমার ভীষণ প্রয়োজন।

না,না, ভালোবাসতে হবেনা..তোমার কাছ থেকে আরো কিছু কষ্ট চাই আমি।

কিছু জীবন্ত কষ্ট আর কিছুটা মৃত।।

 

সারাদিন বিল চষে চষে চিল খাবার খোঁজে. দিনশেষে বাড়ি ফেরে.. তারও কষ্ট জমা থাকে বুকে।

সেই কষ্টের কথা সে তার বাচ্চাদের শুনায় তার ভাঙাচোরা নীড়ে।

বাচ্চাদের চোখে কষ্ট হয়ে উঠে এক উড়ন্ত ঘুরি।

খু্ব আফসোস হয় বাচ্চাদের- ইশ!বাবার মতো আমরাও যদি কষ্ট ছুঁতে পারতাম।

একদিন বাচ্চারা হয়ে উঠে পরিপূর্ণ কষ্ট ভোগের পেয়ালা। তাদের অন্তরে কষ্ট ঢালা হয়- তারাও মুখ বুজে গলধকরণ করে তা।

উপায় নেই,কষ্ট যেখানে হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যায় সেখানে সুখ ছোঁয়া নিতান্ত অপ্রাসঙ্গিক চাওয়া।

 

আমিও কষ্টের পেয়ালা শুদ্ধ গিলে খাই।

কি অদ্ভদ! আমার উদর পূর্তি হয় না…

আরো চাই,আরো চাই, আমার আরো চাই।

কষ্টরাও বুঝে আমি কষ্টের সওদায় নেমেছি..

তারা আমাকে ফেরায় না। অবলীলায় আমাকে তাদের যা কিছু আছে সমস্তটা বিলীন করে দেয়।

 

মাঝে মাঝে কষ্টেদের ভীষণ তেতো লাগে।

নতুন করে কষ্ট পাবার জন্য আমি ছুটে চলি পৃথিবীর এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে।

আজকাল কষ্টদের ও কতো হাহাকার।

কতো আর্তচিৎকার শুনি তাদের নগরীতে।।

আমার কপালে ভাজ পড়ে- কষ্টশুমারিতে দিনদিন কষ্টের সংখ্যা কমে যাচ্ছে।

তবে কি মানুষ সুখের পেছনে ছুটে কষ্টকে অবহেলা করে!

মানুষ বড়ই আজব, সুখ বলতে কিছু নেই তবুও এই অলিক শব্দের পেছনেই দিনরাত ছুটে।

 

আমার কষ্টরা, ফিরে এসো…নতুন করে আমাকে ভিজিয়ে দাও তোমাদের নিঃস্বার্থ কষ্ট পোড়া শোকে।

আর ক’টা দিন বাঁচতে চাই তোমাদেরই ভালোবেসে।


50% LikesVS
50% Dislikes